প্রাণ ফিরেছে জাহাজমারী খালে, কলারোয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

এক সময় খরার মৌসুমে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জাহাজমারি খালে এক ফোঁটা পানি থাকত না। নলকূপের পানি কিনে চাষ করতে হতো। আবার বর্ষা মৌসুম এলেই পানি নামার পথ না থাকায় শ’ শ’ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে যেত। ঋণ করে চাষাবাদ করেও লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হতো। খালটি পুনঃখননে জমিতে প্রাণ ফিরেছে।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খনন করা এ খালের পানিতে সেচ হতো। আবার বর্ষার অতিরিক্ত পানিও দ্রুত নিষ্কাশন হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি পলি জমে নাব্যতা হারায়। ফলে খরার মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র সেচ সংকট, আর বর্ষায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, ফসলের ফলন কমে আসে এবং হাজারো কৃষক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।

দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে রাজকীয় নেদারল্যান্ড দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া এবং এর সহযোগী সংস্থা উত্তরণের বাস্তবায়নে ‘সফল ফর আইডব্লিউআরএম (ওডজগ)’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালে দলুইপুর থেকে গোছমারা লস্কার বড় খাল পর্যন্ত ২ দশমিক ৯৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৩ ফুট প্রশস্ত জাহাজমারী খাল পুনঃখনন করা হয়। এর ফলে প্রায় ৬২৫ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। খালের সুবিধাভোগী প্রায় তিন হাজার কৃষক এখন নতুন করে ফসল উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন।

পুনঃখননকৃত খালের নাব্যতা ধরে রাখতে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে যুগিখালী ইউনিয়নের আড়খালী মসজিদ-সংলগ্ন জাহাজমারী খালে নিজ হাতে কচুরিপানা অপসারণের মাধ্যমে খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম। পরে জাহাজমারী মাইক্রো ওয়াটারশেড কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুগিখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম কাজল। উপস্থিত ছিলেন, জাহাজমারী মাইক্রো ওয়াটারশেড খাল খনন কমিটির উপদেষ্টা আব্দুল গফুর, ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগম ও বিল্লাল হোসেন, খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের, মোঃ মফিজুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, গোলাম মশিউর রহমান, মোঃ মাজহারুল ইসলাম, খোকন সরদার, দীপংকর কুমার মণ্ডল ও মোঃ কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং কৃষকরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, “একটি খাল পুনঃখনন করাই শেষ কথা নয়, এর নাব্যতা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকরা নিজেরাই যখন স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পরিষ্কার করছেন, তখন এটি একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ। উপজেলা প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। খালের অবশিষ্ট ৭৪০ ফুট অংশ পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে ছয়টি গ্রামের প্রায় ৩০ জন কৃষক কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন